বিয়ের আগে কি কি টেস্ট করা জরুরী

যেকোনো ভবিষ্যৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। বিয়ের আগে কি কি টেস্ট করা জরুরী টাইটেল দেখে অনেকেই নিশ্চয়ই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এর কারণ হচ্ছে আমাদের সমাজে এই ধরনের কোন নিয়ম প্রচলিত নাই। তবে সুখী দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সন্তানের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কিছু নিয়ম মানা আবশ্যক।

বিয়ে মানুষের জীবনের গুরুত্ব-পূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধুমাত্র মানসিক সম্পর্ক নয় বরং শারীরিক সম্পর্কও। তাই জীবনসঙ্গিনীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো। যদিও বিশ্বের অনেক দেশেই এ নিয়ে সচেতনতা রয়েছে তবে আমাদের দেশে এখনো সেই সচেতনতা তৈরি হয়নি। তবে আধুনিক প্রজন্মের তরুণ তরুণীদের মধ্যে এ নিয়ে বেশ আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা সহ নানা ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। চলুন সে সম্পর্কে জেনে নেই।

রক্তের গ্রুপ এবং আরএইচ ফ্যাক্টর টেস্ট (Rh Factor)

পাত্র এবং পাত্রী উভয়েরই রক্তের গ্রুপ জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে আরএইচ পজেটিভ নাকি নেগেটিভ সেটা জানা থাকলে ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়ার সন্তানের ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় স্ত্রী আরএইচ ফ্যাক্টর যদি নেগেটিভ এবং স্বামীর যদি পজেটিভ হয় তাহলে জন্ম নেওয়ার সন্তান নেগেটিভ বা পজেটিভ উভয় রক্তের গ্রুপেরই হতে পারে। এক্ষেত্রে সন্তান যদি নেগেটিভ গ্রুপের জন্ম নেয় তাহলে স্বাস্থ্যগতার দিক থেকে কোন সমস্যা নেই।

তবে পজিটিভ হলে শারীরিক জটিলতা দেখাতে পারে। এর কারণে ভবিষ্যতে অকাল গর্ভপাত, মারাত্মক জন্ডিস, মস্তিষ্কের সমস্যা ইত্যাদি দেখা দেয়। আর যদি এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মেন্টাল হেলথ টেস্ট

সুখী সংসারের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাত্র কিংবা পাত্রীর কারো যদি এই ধরনের সমস্যা থাকে তাহলে ভবিষ্যতের সংসার জীবনে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আগে থেকেই বডর কিংবা কনেন মেন্টাল হেলথ টেস্ট করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোন সমস্যার থেকেই থাকে তাহলে আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া উচিত।

হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা

বিয়ের আগে কি কি টেস্ট করা জরুরী তার এই পর্বে আমরা জানবো হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস সম্পর্কে। এটি এমন একটি টেস্ট যার মাধ্যমে বোঝা যায় কেউ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত কিনা। এমনকি সে এ রোগের বাহক কিনা সেটিও জানা যায়। যদি এ সমস্যাটি থেকে থাকে তাহলে অনাগত সন্তান ও ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়ার মত ডিসিজে আক্রান্ত হতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের যৌনবাহিত রোগ

হেপাটাইটিস সি, হেপাটাইটিস বি, এইডস, গনেরিয়া, সিফিলিসের মতো মারাত্মক রোগ আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। কারণ বিয়ের পর শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে এই ধরনের অসুখ একজনের শরীর থেকে অন্য জনের দেহে প্রবেশ করতে পারে। তাই ভবিষ্যতে নিরাপদ থাকার জন্য অবশ্যই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এ বিষয় জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা

বর্তমানে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে ছেলে কিংবা মেয়ে যে কেউ দায়ী থাকতে পারে। তাই আগামী দিনে যাতে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে না হয় তাই বিয়ের আগেই পাত্র পাত্রে বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে ওভারি পরীক্ষা

লেখাপড়া, ক্যারিয়ার ইত্যাদি শেষ করে অনেক নারী উচ্চ বয়সে বিয়ে করে থাকেন। খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেকেরই অভারিতে সমস্যা তৈরি হয়। যেটি কিনা ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানের জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই বিয়ের আগেই ওভারি টেস্ট করানো ভবিষ্যৎ অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের বংশগত রোগ

অনেকেরই বংশগত রোগ থাকতে পারে। যা কিনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে বিস্তার লাভ করে। বিয়ের আগে কি কি টেস্ট করানো জরুরী তার মধ্যে এটি অন্যতম। বিশেষ করে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের আগে বংশগত রোগের টেস্ট করানো প্রয়োজন।

বিয়ের আগে করনীয়

এতক্ষণ তো আমরা জানলাম বিয়ের আগে কি কি টেস্ট করানো প্রয়োজন। এছাড়াও বেশ কিছু মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে। ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গীনির সঙ্গে মানসিক বোঝাপড়া সুখে থাকার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তাছাড়া যে যে জরুরী বিষয়াদি সম্পর্কে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন তা হল

• পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। যা কিনা দুজনের মাঝে সকল প্রকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করে।

• যেহেতু একটি সংসার শুরু করতে গেলে অনেক খরচ এবং বাজেটের প্রয়োজন হয় তাই আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। ছেলেদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই আর্থিক পরিকল্পনা করা উচিত।

• বিয়ের শুধুমাত্র দুটি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা বরং দুইটি পরিবারের মধ্য সেতুবন্ধন তৈরি করে। তাই পারিবারিক বিষয়সমূহ আলোচনা করা প্রয়োজন।

• বিয়ের আগে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনে কাগজপত্র যেমন নিবন্ধন, কাবিননামা, রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

• বিয়ের আগে করনীয়ক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দুইজনেরই অতীত সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা। এতে করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়।

• একই ধর্মের হলেও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সামাজিক প্রতিনিধি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বড় অনুষ্ঠান করে বিয়ে করার আগে সামাজিক রীতিনীতি জেনে নিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার।

আরো জানুনঃ ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার নিয়ম

আমি আগেও একবার উল্লেখ করেছি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিয়ে। একটি সংসারে যখন পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে তখন সেটি অনেক বেশি সুখের হয়ে ওঠে। কিন্তু সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করলে দেখা যায় অনেক সুখের সংসার এই ফাটল ধরতে। একে অপরের প্রতি সেক্রিফাইস মানসিকতা এবং ধৈর্যই পারে এই ধরনের পরিস্থিতি কেউ রুখে দিতে। বিয়ের আগে কি কি টেস্ট করানো দরকার সেটি তো শুধুমাত্র ভবিষ্যৎ সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। তবে সার্বিকভাবে সুখী হওয়ার জন্য একে অপরের প্রতি বোঝাপড়াই সব চাইতে বেশি জরুরি।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *