Chaster Namaj Khokhon porechaster namajer niyom

ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি ইসলামের নফল নামাজের গুরুত্ব এবং ফজিলত অনেক বেশি। এই ইবাদত একজন মুমিন বান্দার জীবনের উন্নতির ঘটায় এবং মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনে সাহায্য করে। তাইতো চাশতের নামাজের সময়, নিয়ম ও ফজিলত ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা করব।

চাশতের নামাজ হলো নফল নামাজ গুলির মধ্যে অন্যতম। এই নামাজকে সালাতুত দুহা বলা হয়ে থাকে। সাধারণত ইশরাকের পর পরই চাশত বা সালাতুল দুহার সময় শুরু হয়ে যায়। চলুন এ সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জেনে নেই।

চাশতের নামাজ কত রাকাত

যেহেতু এটি একটি নফল নামাজ তাই যে কেউ চাইলে বেশিও আদায় করতে পারে। তবে চাশতের নামাজ ২ বা ৪ রাকাত। এক্ষেত্রে ৪ রাকাত পড়াই উত্তম। তবে নফল নামাজ বেশি পড়ার ব্যাপারে যেহেতু কোন নিষেধ বরং সওয়াব রয়েছে তাই এটিও বেশি পড়া যায় বলে আলেমগণ মত প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে একটি হাদিস রয়েছে। মুআজা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি একবার আয়েশা (রা.) কে জিজ্ঞেস করলেন যে প্রিয় নবী রাসুল (সা.) কি চাশতের নামাজ আদায় করতেন। এর উত্তরে তিনি বললেন হ্যাঁ, ৪ রাকাত সালাত নামাজ আদায় করতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা চাইলে কখনো কখনো বেশিও নামাজ আদায় করতেন। (মুসলিম, হাদীস ১৬৯৬, ইবনে মাজাহ, হাদীস: ১৩৮১)

চাশতের নামাজের সময়

যখন সূর্য মাঝ আকাশে স্থির হয় তার ঠিক আগ মুহূর্তেই দুহা বা সালাতুল চাশত আদায় করতে হয়। এখানে দুহা শব্দটির অর্থ হচ্ছে প্রভাতের সূর্যের উজ্জ্বলতা। অর্থাৎ সকালের সূর্যের যে আলো রয়েছে সেটা সুস্পষ্ট ভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দুহার নামাজ আদায়ের সময় শুরু হয়। তাই যখন কিনা সূর্যের তাপ প্রখর হয় তখন থেকেই এই নামাজ আদায় করা সবচাইতে উত্তম। এ ব্যাপারেও প্রিয় নবী রাসুল (সা.) বলেছেন, দুহার নামাজ পড়া হবে যখন সূর্যের তাপপ্রহর হয়। (সহীহ মুসলিম: ৭৪৮)

চাশতের নামাজের ফজিলত কি

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে আমাদের প্রিয় নবী রাসুল (সা.) আমাকে ৩ টি বিষয়ে ওছিয়ত করেছেন। যেন সেগুলো আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কখনো ত্যাগ না করি। যেগুলো হচ্ছে প্রতিটি মাসের ৩ দিন সাওম পালন করা, চাশতের নামাজ বা দোহার নামাজ আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর সালাত আদায় করা। (সহি বুখারী: ১১৭৮)

মানবদেহে ৩৬০ জোড়া রয়েছে। মানুষের কর্তব্য হচ্ছে এই সকল হাড়ের প্রত্যেক জোড়ার জন্য একটি করে সদকা আদায় করা। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল কার শক্তি আছে এই কাজ করা? উত্তরে তিনি বললেন কোথাও থুতু দেখলে তা ঢেকে দাও অথবা রাস্তায় কোন ক্ষতিকারক বস্তু দেখলে সেটি সরিয়ে দাও। আর যদি এমন কিছু না পাও তাহলে দুহার বা চাশতের ২ রাকাত সালাত আদায় এর জন্য যথেষ্ট। (আবু দাউদ: ৫২২২)

উপরিক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে মানবদেহের হাড়ের জন্য যে সাদকা করতে হয় সেটি ভালো কাজ তারাও করা যায়। যেমন রাস্তায় কোন ক্ষতিকারক বস্তু দেখলে সেটি সরিয়ে দেওয়া একটি ভালো কাজ। যায় কিনা অন্য কারো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার রোধ করতে সহায়তা করে। এগুলি মনে আল্লাহ তায়ালার নিকট সদগা বলে গণ্য হবে। তবে কেউ যদি এই ধরনের কাজ করার সুযোগ না পায় তাহলে তিনি চাশতের নামাজ আদায় করতে পারেন। যেটি কিনা এই সদগান সমতুল্য।

হযরত ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা.) সূর্য হেলার পর থেকে যোহরের নামাজের আগ পর্যন্ত ৪ রাকাত সালাত আদায় করতেন। এ ব্যাপারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সময়টিতে আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এবং তিনি এও জানিয়েছেন যে আমার একান্ত ইচ্ছা এ সময় আমার কোন সৎ বা ভালো কাজ মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে পৌছুক। (তিরমিজি হাদিস ৪৭৮)

ভবিষ্যতের পৃথিবী কেমন হবে, জানতে এখানে প্রবেশ করুন

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, চাশতের নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক। তাই অন্যান্য ফরজ নামাজ এবং ইবাদতের পাশাপাশি আমাদেরকে এই ধরনের নফল ইবাদতের প্রতি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এর ফলে একদিকে আমরা যেন আখেরাতে উপকৃত হব ঠিক তেমনি ভাবেই মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ লাভ করতে পারব।

আবার অনেকেই চাশতের নামাজকে ইশরাকের নামাজ বলেই অভিহিত করেছেন। এক্ষেত্রে তারা উল্লেখ করেন যে নির্ধারিত সময়ের শুরুতে আদায় করলে সেটাকে নামাজ এবং সময় শেষে আদায় করলে সেটিই চাশতের নামাজ হয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে চাশতের নামাজ আদায় এবং অন্যান্য সুন্নতের উপর দিন পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *