প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জন্য কিভাবে পড়তে হবেপ্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সিলেবাস ২০২৫

এক যুগেরও বেশি সময় পরে আবারো শুরু হতে যাচ্ছে ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা। চলতি বছরেই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষা নিয়ে তাইতো শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের তৈরি হয়েছে। যারা আসন্ন এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য প্রস্তুতি নিতে চান তাদের জন্য রয়েছে আজকে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য।

যেহেতু দীর্ঘদিন পরে এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাই পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার সিলেবাস এবং মানবন্টন যারা সবার আগে জরুরী। নিম্নে এই বিষয়গুলোর সম্পর্কে খুঁটিনাটি আলোচনা করা হলো।

বৃত্তি পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভালো ফলাফল প্রতিটি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরই কাম্য। স্কুলে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি বৃত্তির পরীক্ষারও কিছু সুবিধা রয়েছে। সাধারণত এই সরকারি পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। যারা বৃত্তি লাভ করে তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে পড়াশোনার খরচের জন্য অর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয় এবং প্রাইভেট বৃত্তি গুলো থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। এমনকি পরবর্তী শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রেও সহায়ক হয় এই সার্টিফিকেট।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই পরীক্ষাটি ২০০৮ সালের পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল। তাই চলতি বছরের পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।

৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার মানবন্টন ২০২৫

সিলেবাস জানার আগে মানবন্টন জানানোটাও প্রয়োজন। সাধারণত পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার ৫ টি সাবজেক্ট বা বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বমোট থাকে ৪০০ নম্বর। প্রতিটি বিষয়ের মানবন্টন নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

বাংলা – ১০০ নম্বর
সাধারণত গদ্য, পদ্য, ব্যাকরণ এবং রচনা অংশ থেকে প্রশ্ন এসে থাকে।

ইংরেজি – ১০০ নম্বর
Reading, writing, grammar এবং vocabulary, থেকে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।

গণিত – ১০০ নম্বর
জ্যামিতি, উপাত্ত, সম্ভাবনা, সংখ্যা, পরিমাপ টপিক্স থেকে প্রশ্ন আসে।

প্রাথমিক বিজ্ঞান – ৫০ নম্বর / বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় – ৫০ নম্বর

পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার সিলেবাস ২০২৫

চলতি বছরের পরীক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেবাস প্রকাশ করেন। তবে পঞ্চম শ্রেণীর সকল পাঠ্যবই অর্থাৎ মূল বই থেকেই প্রশ্ন এসে থাকে। বিগত বছরের পরীক্ষা ও NCTB কর্তৃক প্রকাশিত বই অনুযায়ী নিচে সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হলো।

বাংলা বিষয়

রিক্সাওয়ালা, এই দেশে মানুষ, আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে ইত্যাদি গদ্য এবং পদ্য থেকে প্রশ্ন আসবে। ব্যাকরণ অংশের বাক্য, সন্ধি, সমাস, বর্ণ, শব্দ থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

ইংরেজি

পঞ্চম শ্রেণীর “English For Today” বইয়ে যে সকল লেসন, গ্রামার এবং ভোকাবুলারি আছে সব অংশ থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

গণিত

একইভাবে গণিতের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন টপিক যেমন প্রাকৃতিক সংখ্যা, দশমিক, ভগ্নাংশ, পরিমাপ, জ্যামিতি, সংখ্যা ইত্যাদি এই বৃত্তির সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত।

প্রাথমিক বিজ্ঞান

উদ্ভিদ ও প্রাণী, খাদ্য ও পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও রোগ ইত্যাদি যে সকল পাঠ রয়েছে সকল অংশ থেকেই করতে হবে। এতে করে বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সমাজ বা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের রিডিং সহ খুঁটিনাটি ছোট প্রশ্ন গুলো ভালোভাবে প্রিপারেশন নিলে এই অংশ থেকে আসা প্রশ্নগুলি কমেন্ট করবে।

পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা কবে হবে?

এখনো সুনির্দিষ্ট রুটিন বা তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

পরীক্ষার সময় হবে সর্বমোট ৩ ঘন্টা। সকাল ১০ টায় পরীক্ষা শুরু হবে এবং শেষ হবে দুপুর ১ টায়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দেওয়ার পরেই এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কোন শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে

চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে যেই সকল শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত আছে তারাই শুধুমাত্র এই পরীক্ষা দিতে পারবে। শুধু তাই নয় এর জন্য সামষ্টিক মূল্যায়নের অংশগ্রহণ করতে হবে।

দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট স্কুল, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ অংশগ্রহণ করতে পারবে। সাধারণত প্রতিটি স্কুলের যারা নিয়মিত উপস্থিত থাকে এবং চতুর্থ শ্রেণীতে ভালো ফলাফল রয়েছে তারাই এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো করার উপায় কি?

যেহেতু পরীক্ষার প্রশ্ন পাঠ্য বই থেকে এসে থাকে তাই সবার আগে এই পাঠ্য বই ভালোভাবে পড়তে হবে। পাঠ্য বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় এবং প্রতিটি টপিক্স প্রথমে রিডিং পড়তে হবে বুঝে বুঝে। রিডিং পড়া শেষ হলে ছোট প্রশ্নগুলি আলাদাভাবে নোট করে পড়লে প্রস্তুতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এ সকল ছোট ছোট প্রশ্ন থেকে অনেক বেশি নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলার জন্য গদ্য, পদ্য অংশের লেখকের নাম, জন্ম সাল এবং অন্যান্য প্রাথমিক তথ্যগুলি ভালোভাবে মনে রাখার জন্য বারবার পড়া উচিত। আর এই বসে থেকে যে কোন পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।

গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিটি টপিক বারবার পড়া ও লিখায় অভ্যস্ত হতে হবে। গ্রামারের বেসিক নিয়ম গুলো শেখার পর নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। যেহেতু বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বয়ে অনেক তথ্য থাকে তাই এগুলো দেখে দেখে বারবার করতে হবে।

যারা আসন্ন ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ অংশগ্রহণ করবে তাদের জন্য রইলো দোয়া, ভালোবাসা আর শুভকামনা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *