আজকে আমরা জানবো জিপি সহ সকল সিম পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড করার নিয়ম কি। বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সিম অপারেটর জিপির তিন ধরনের সিম রয়েছে। প্রি এবং পোস্টপেইড ছাড়াও অপরটি হচ্ছে স্কিটো। স্কিটো সিম মূলত মার্কেটে আনা হয়েছিল ইন্টারনেট সুবিধার জন্য। সো কিভাবে সিমকে একটি ক্যাটাগরি থেকে অপর ক্যাটাগরিতে মাইগ্রেশন করতে পারেন তা জানতে নিচের লেখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
গ্রামীণফোনের প্রিপেইড ও পোস্টপেইড সিম কি?
মাইগ্রেশন করার আগে যদি আপনি ভালোভাবে বুঝতে পারেন কোন ধরনের সিমের কি কি সুবিধা রয়েছে তাহলে সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক সহজ হবে।
প্রিপেইড সিম কি
প্রি শব্দের অর্থ পূর্বে। অর্থাৎ এই ধরনের সিম গুলো ব্যবহার করার আগে টাকা লোড দিতে হবে এবং পরে সেটি খরচ করতে হবে। আমরা বেশিরভাগ সময়েই প্রিপেইড সিম ব্যবহার করে থাকি। যেকোনো ইন্টারনেট মিনিট অথবা সার্ভিস কেনার আগে রিচার্জ করতে হয় তারপরে সেই সার্ভিস গুলো আমরা ক্রয় করতে পারি। এটিই হচ্ছে প্রিপেইড সিম। জিপি সহ সকল কোম্পানির প্রিপেইড সিম ব্যবহারের নিয়ম মোটামুটি একই ধরনের।
প্রিপেইড সিমের সুবিধাও রয়েছে কিছু। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রি মিসকল এলার্ট, রিচার্জ এর উপর বোনাস, বিকাশ বা ব্যাংক হতে রিচার্জ করলে ক্যাশব্যাক, ইমারজেন্সি ব্যালেন্স, মিনিট ও নেট সুবিধা ইত্যাদি। তবে এই সিমের সবচাইতে বড় অসুবিধা হচ্ছে ব্যালেন্স ফুরিয়ে গেলে পরবর্তীতে আবার রিচার্জ না করা পর্যন্ত কোন ধরনের প্যাকেজ ব্যবহার করা যায় না।
এজন্য মাঝে মাঝেই বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। তবে সাধারণভাবে কলরেট বেশি হলেও অফারে অনেক সাশ্রয়ীর প্যাকেজে ইন্টারনেট ও মিনিট কেনা যায়।
পোস্টপেইড সিম কি
পোস্টপেইড সিমের সুবিধা হচ্ছে এতে করে আগে টাকা রিচার্জ করতে হয় না। অর্থাৎ কোন ধরনের টাকা লোড না দিয়েই আপনি ইন্টারনেট মিনিটসহ বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস উপভোগ করতে পারবেন। তারপর সারা মাসের ব্যবহৃত মাস শেষে বিল আকারে পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে সারা মাস ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রেডিট বা ব্যালেন্স দেওয়া থাকে। রিচার্জের ঝামেলা নেই বলে যখন তখন বিড়াম্বনায় পড়তে হয় না। প্রিপেইডের তুলনায় পোস্টপেইডে কলরেট কিছুটা কম পাওয়া যায়। প্রিপেইডের মধ্যে আকর্ষণীয় অফার সুবিধা না থাকলেও অনেকেই এটি পছন্দ করে থাকেন। কারণ মাস শেষে বিল আকারে টাকা প্রদান করা যায়।
যে কোন সিম পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড করার নিয়ম
শুরুতেই আসে গ্রামীণফোনের কথা। আপনার হাতে যদি একটি স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকে তাহলে নিজে নিজেই এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন। এর জন্য মাই জিপি অ্যাপ থেকে আপনাকে লাইভ চ্যাটে যেতে হবে।
লাইভ চ্যাট অপশনে গিয়ে কাস্টমার প্রতিনিধির সাথে আপনার সিদ্ধান্ত শেয়ার করুন। তাকে জানান যে আপনি সিমটি পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইড করার জন্য আগ্রহী।
যেহেতু সিমে ব্যালেন্স ব্যবহার করার পর সেটা পরিশোধ করা হয় তাই প্রিপেইডে মাইগ্রেশন করার জন্য অবশ্যই সমস্ত বকেয়া বিল আগে পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিল পরিমোধের দিন সিম মাইগ্রেশন করা যাবে না। বিলিং ডেট বাদে অন্য যে কোন দিন আপনি সিম পোস্টপেইড থেকে প্রিভেটে মাইগ্রেশন করতে পারবেন।
একইভাবে airtel, banglalink, রবি সিম প্রিপেইড থেকে পোস্টপেইড করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে আপনারা মাই এয়ারটেল অ্যাপ, রবি অ্যাপ, বাংলালিংক এর অ্যাপ, ব্যবহার করতে পারেন।
কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সাথে কথা বলে সিম মাইগ্রেশন
উপরের মাইগ্রেশন ছাড়াও যেকোনো গ্রাহক চাইলে প্রিপেইড থেকে পোস্টপেইডে মাইগ্রেশন করতে পারে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সিমের হেল্পলাইনে কল করে কাস্টমার প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে হবে। কারণ সব ক্ষেত্রে এই সেবা চালু নাও থাকতে পারে। কারণ প্রিপেইড থেকে পোস্টপেইডে মাইগ্রেশন করার জন্য প্রতিষ্ঠানের কিছু নির্ধারিত শর্ত প্রযোজ্য থাকে। তবে বর্তমানে মাই জিপি অ্যাপেল লাইভ যেটি হচ্ছে এই ক্যাটাগরি পরিবর্তনের সবচাইতে ভালো পদ্ধতি।
যেহে পোস্টপেইড সিমের সুবিধা এবং প্রিপেইড সিমের সুবিধার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তাই যেকোনো সিম বা জিপি সিম পোস্টপেইড থেকে প্রিপেইডে মাইগ্রেশন করার আগে অফার গুলো যাচাই করে নিবেন। কারণ একবার ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়ে গেলে নির্ধারিত মেয়েদের আগে পুনরায় পূর্বের ক্যাটাগরিতে যাওয়া যায় না।