কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্সে ভর্তি হতে কত টাকা লাগে এখন তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়েছে আগ্রহ। কারণ ইতি মধ্যেই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই সাথে অনার্সে ভর্তি হতে কি কি কাগজপত্র লাগে সেটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিগত ২৯ শে জুন থেকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অধীনে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম মেধাতালিকার এই ভর্তি চলবে আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত। পছন্দের কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রয়োজন নির্ধারিত ভর্তি ফি এবং অন্যান্য কাগজপত্র। চলুন সেগুলো জেনে নেই
অনার্সে ভর্তি হতে কত টাকা লাগে
বাংলাদেশে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধীনে দুই ধরনের কলেজ রয়েছে। যে কলেজসমূহ অপ পুরোপুরিভাবে সরকারে সেগুলোতে ভর্তি হতে সর্বোচ্চ ৬০০০ টাকা কিংবা তার সামান্য বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
আর্টস, কমার্স বা সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট ভেদে ভর্তি ফি তারতম্য হতে পারে। সাধারণত আর্টস ডিপার্টমেন্টে ভর্তি ফি কম, কমার্স এবং সাইন্স ডিপার্টমেন্ট এর বিভিন্ন সাবজেক্টে ভর্তি হতে কিছুটা বেশি টাকা লাগে।
একইভাবে বিভিন্ন বেসরকারি কলেজ সমূহে হতে ভর্তি হতে ৭ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তবে কলেজ ও সাবজেক্ট ভেদে এই টাকারও কিছুটা কম অথবা বেশি হতে পারে।
অনার্সে ভর্তি হতে কি কি কাগজপত্র লাগবে
ভর্তি ফি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। যথাযথ কাগজপত্র গুলি না থাকলে পড়তে হতে পারে নানা ধরনের বিড়াম্বনায়। ঝামেলা বিহীনভাবে ভর্তি হতে নিম্নে উল্লেখিত কাগজপত্র গুলো অবশ্যই প্রয়োজন হবে এবং এটি আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা ভালো।
• অনলাইন হতে ডাউনলোডকৃত ভর্তি ফরম এবং এর ২ থেকে ৩ কপি ফটোকপি।
• এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার মূল নম্বর পত্র এবং ২ টি করে ফটোকপি।
• এসএসসি এবং এইচএসসি পাশের প্রশংসাপত্র এবং এর ২ টি করে ফটোকপি।
• একইভাবে এসএসসি এবং এইচএসসি পাশের প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ডও প্রয়োজন হবে। সেই সাথে প্রতিটি কাগজের ২ টি করে ফটোকপি লাগবে।
• শিক্ষার্থীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট এবং স্ট্যাম্প সাইজের ছবির রঙিন কপি। এক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ কপি প্রয়োজন হতে পারে।
• শিক্ষার্থীর অভিভাবক অর্থাৎ পিতা-মাতার পাসপোর্ট ও স্ট্যাম্প সাইজের রঙিন ছবি।
• শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি এবং সেটি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।
• শিক্ষার্থীর অভিভাবক অর্থাৎ মা-বাবার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং সেটি সত্যায়িত হতে হবে।
• যারা কোটার মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন এবং ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদেরকে অবশ্যই কোটার সার্টিফিকেটের কপি জমা দিতে হবে।
ভর্তি সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনাবলী
যে সকল শিক্ষার্থী বিগত অর্থাৎ ২০২৩ ২৪ শিক্ষাবর্ষে ইতিমধ্যে ভর্তি হয়েছেন তাদেরকে অবশ্যই পূর্বের ভর্তি বাতিল করতে হবে। তা না হলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি মেধা তালিকায় যারা ইতিমধ্য চান্সপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা সাবজেক্ট পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভর্তি ফরম পূরণ করার সময় বিষয় পরিবর্তনের ঘরটি ইয়েস অপশন সিলেক্ট করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে পছন্দ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কলেজে শুন্য আসন থাকার সাপেক্ষে বিষয় পরিবর্তন করতে পারবেন।
আগামী ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখ থেকে চলতে শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করি অনার্সে ভর্তি হতে কত টাকা লাগে এবং অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে আপনারা বুঝতে পেরেছেন।
১৫ হাজার টাকায় সেরা মোবাইল কোনটি? এখানে প্রবেশ করে জেনে নিন।
ভর্তির ক্ষেত্রে কোন ধরনের গরমিল অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত সম্ভব লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। আর যারা প্রথম মেধা তালিকায় এখনো চান্স প্রাপ্ত হয়নি তারা পরবর্তী অর্থাৎ দ্বিতীয় মেধা তালিকার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে পারো।
