Magistrate hote ki ki lageম্যাজিস্ট্রেট কয় ধরনের ও কি কি

সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও বেতন ভাতা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বেশ আকর্ষণীয়। তাইতো ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা বেসরকারি চাকরিকে সাইডে রেখে অনেকেই এই ধরনের পদগুলোতে যোগদান করতে ইচ্ছুক হন। এক্ষেত্রে আপনি যদি এই ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সঠিক জায়গায় এসেছেন। বিভিন্ন ধরনের গভর্নমেন্ট সার্ভিসের মধ্য এটি অন্যতম।

ম্যাজিস্ট্রেট কয় ধরনের ও কি কি

সাধারণত দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে থাকে।

১। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

এই পদগুলোতে যোগদান করার জন্য অবশ্যই আইন বিষয়ে অর্থাৎ ল নিয়ে চার বছর গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করতে হবে। তারপর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন দ্বারা পরিচালিত প্রিলি, রিটেন, ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এই পরীক্ষাটি অন্যান্য নন ক্যাডার বা বিসিএস পরীক্ষার মতই। চূড়ান্ত ও প্রার্থীরাই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন।

২। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

যেকোনো বিষয়ে স্নাতক বা অনার্স সম্পন্ন করে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে একজন প্রার্থী প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হতে পারেন। এ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করব।

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা কি

আমি উপরে একবার উল্লেখ করেছি যারা কিনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হতে চান তাদেরকে অবশ্যই ৪ বছর মেয়াদী অনার্স সম্পন্ন করতে হবে আইন বিষয়ে। এই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার পর নির্ধারিত পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করতে পারবেন।

একইভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার জন্য অবশ্যই বিসিএস বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এই পরীক্ষাটি তিনটে ধাপে হয়ে থাকে।

১। প্রিলিমিনারি বা বহুনির্বাচনি অংশ
২। রিটেন বা লিখিত অংশ
৩। ভাইবা বা মৌখিক অংশ

তবে প্রিলি বা রিটেন অংশের নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলের সাথে যুক্ত করা হয় না।

শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীকে বাংলাদেশের স্বীকৃত যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে কোন সাবজেক্ট নিয়ে অনার্স সম্পন্ন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে শিক্ষা জীবনে কোন তৃতীয় শ্রেণীর রেজাল্ট গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স অথবা মাস্টার্স কোন পরীক্ষা যদি আপনি তৃতীয় শ্রেণীর অথবা সমমানের সিজিপিএ অর্জন করে থাকেন তাহলে আবেদন করতে পারবেন না। ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণীর রেজাল্ট থাকতে হবে।

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার শারীরিক যোগ্যতা

অনেকেই মনে করে থাকেন এই ধরনের সরকারি চাকরি গুলোতে যোগদান করতে গেলে শারীরিকভাবে অনেক বেশি ফিট হতে পারে। পুলিশ, আনসার ইত্যাদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া অন্যান্য পদগুলোতে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে এমন কোন প্রতিবন্ধকতা বা অক্ষমতা থাকা যাবে না যার কারণে উক্ত পদে দায়িত্ব পালন করতে কোন সমস্যা হয়। বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা বিবাহিত হতে পারবেন। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার জন্য নির্ধারিত উচ্চতার দরকার নেই।

ম্যাজিস্ট্রেট কিভাবে হয়

শুরুতেই আলোচনা করব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিভাবে হওয়া যায়।

১। বিসিএস সার্কুলার প্রকাশিত হলে আপনাকে অবশ্যই প্রশাসন ক্যাডারে আবেদন করতে হবে।

২। আবেদন করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী কমিশনার বা প্রশাসন ক্যাডারের পদে নির্বাচন করতে হবে। যদি আপনি মনেপ্রাণের সংকল্প করে থাকেন যে একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করবেন তাহলে অবশ্যই প্রশাসন বা সহকারী কমিশনার পদটি পছন্দের তালিকায় ১ নম্বরে রাখবেন।

৩। আবেদন করার পর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করুন। এক্ষেত্রে ২০০ নম্বর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মনে রাখবেন চাকরি পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে এই উত্তীর্ণ হতে হবে।

৪। প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনার জন্য সামনে অপেক্ষা করেছে লিখিত পরীক্ষা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধুমাত্র আপনি প্রশাসন অর্থাৎ জেনারেল ক্যাডারে রিটেন পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক হন তাহলে আপনাকে ৯০০ নম্বরে লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। সাথে আরো যদি শিক্ষা অর্থাৎ প্রফেশনাল ক্যাডার চয়েস করেন তাহলে নম্বরের কিছুটা তারতম্য হবে।

লিখিত পরীক্ষায় যে সকল প্রার্থী উত্তীর্ণ হবেন তারা ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন এখনো করতে পারেননি। সামনে ভাইবা পরীক্ষা বাকি রয়েছে। সাধারণত ২০০ মার্কের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়ে থাকে।

উক্ত পরীক্ষায় ভালো করলে এবং চূড়ান্তভাবে ফলাফল প্রকাশিত হলেই একমাত্র বিসিএস অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায়। তবে কঠোর পরিশ্রম এবং ধৈর্যের সাথে লেখাপড়ার মাধ্যমে এই ধরনের পদে জয়েন করা যায়

একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার জন্য একই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা দিতে হয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে।

একজন ম্যাজিস্ট্রেটের বেতন কত টাকা

সাধারণত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বাড়ি ভায়া চিকিৎসা ভাতা ইত্যাদি মিলে ৩৭,৩০৫ টাকা পর্যন্ত বেতন হয়ে থাকে। তবে সিটি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য এলাকা ভেদে এই বেতন ৩৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। যোগদানের পর প্রথমে এদেরকে নবম গ্রেড অনুযায়ী বেতন এবং অন্যান্য ভাতা প্রদান করা হয়। তারপর ভবিষ্যতে প্রমোশন অনুযায়ী এবং বিভিন্ন কাজের সুযোগ অনুযায়ী অনেক ভাতার রয়েছে। যার মাধ্যমে একজন সরকারি কর্মকর্তা স্বচ্ছলতার সহিত পরিবার নিয়ে জীবন যাপন করতে পারে।

ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ কি

যেহেতু এটি একটি সরকারের প্রশাসন বিভাগের চাকরী এর তাই এর কাজের চাপও রয়েছে অনেক। আমি নিম্নে এর কিছু ধারণা প্রদান করার চেষ্টা করলাম।

১। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করা।

২। সরকারের কাছে নিয়মিত অর্থাৎ বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা।

৩। বিভাগিয় কমিশনারের কাছে নিয়মিত কাজের সকল বিস্তারিত সম্পর্কে অবহিত করা।

৪। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে বিভাগীয় কমিশনারের অনুপস্থিতিতে তার সকল দায়িত্ব পালন করা।

৫। নির্দিষ্ট সময় পর পর দায়িত্বগত এলাকার পুলিশ কারাগারে ইত্যাদি পরিদর্শন করে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করা।

৬। বিভিন্ন ধরনের অপরাধীকে আইন অনুযায়ী গ্রেফতার করা এবং হেফাজতে রাখা। এটি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বলতে পারেন।

৭। অপরাধের ধরন অনুযায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা এবং সরাসরি তল্লাশি করা।

৮। দ্রব্যমূল্যের উত্তরপত্র সহ নানা ধরনের অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করা।

৯। এলাকায় সংকলিত হতে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১০। এমনকি কিছু কিছু অপরাধী আছে যারা শুধুমাত্র অভ্যাসের বসে এগুলো করে থাকে তাদের থেকে ভালো আচরণের প্রাপ্তির পর জামিনও প্রদান করতে পারেন।

উপরিক্ত সাধারণ কিছু কাজ ছাড়াও একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তার আরো অনেক বেশি কাজে রয়েছে। নিয়মিত মিটিং করা, কর্মকর্তাদের কাজের তদারকি করা সহ এতো কাজ যে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য তেমন কোন সময় পাওয়া যায় না। তাছাড়া বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ট্রেনিং তো রয়েছেই। বলতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সহ আরো বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছে। তবুও মানুষ এগুলো পছন্দ করে কারণ এর মাধ্যমে সরাসরি জনগণের সেবা করা যায় এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা যায়।

ম্যাজিস্ট্রেটর পদোন্নতি বা প্রমোশনের সিস্টেম কি

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর একজন কর্মকর্তা সাধারণত প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। তারপর তাদের কাজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়।

চাকুরী কালীন সময়ে দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ ইত্যাদি গ্রহণ করার পর একজন সরকারি ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে সিনিয়র সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা, জেলা প্রশাসক বা ডিসি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাদি পদে যোগদান করতে পারেন। এভাবে প্রমোশন পেয়ে একটা সময় জেলার দায়িত্ব বা ডিসি হিসেবেও পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই চাকরি জীবনে অনৈতিক কর্মকান্ডে যোগদান করা যাবে না। তা না হলে প্রমোশন প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে। শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেই পরবর্তী চাকরি জীবন সুখের হবে বিষয়টি তা নয়। বরং পুরো চাকরির জীবন এই নানা ধরনের ট্রেনিংসহ যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কি

একজন ম্যাজিস্ট্রেটের বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাশাপাশি অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করে থাকেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কি তা সম্পর্কে।

এটি হচ্ছে এমন একটি আদালত যায় কিনা বাংলাদেশের জেলা এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত ফৌজদারী মামলা গুলোর বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা থাকে। প্রতিটি জেলায় পর্যায়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাদি থাকেন। যাদেরকে আমরা বলে থাকি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

এই আদালতে প্রধান কাজ হচ্ছে ছোটখাটো অপরাধ গুলোর বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং অভিযুক্তদেরকে সাজা প্রদান করা। এমনকি নিরপরাধ ব্যক্তি কে জামিনও দিতে পারেন। এই ধরনের আদালত গুলোতে সাধারণত আইন বিষয়ক গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন দ্বারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন তারাই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট হতে গেলে কি কি পড়তে হবে

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার যোগ্যতা যদি আপনি ভালোভাবে বুঝে থাকেন তাহলে আপনি এখন জেনে গিয়েছেন যে ম্যাজিস্ট্রেট হতে কোন বিষয়ে পড়তে হবে এবং কিভাবে প্রিপারেশন নিতে হবে। দ্বিতীয় অথবা প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক সম্পন্ন করার পরই আপনি পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন। তারপর আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন কিনা সেটা নির্ভর করবে প্রচেষ্টা এবং ধৈর্যের উপর। ইতিমধ্যেও ৪৮ তম পর্যন্ত বিসিএস এর সার্কুলার হয়ে গিয়েছে। সামনে ৪৯ তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আপনিও স্বপ্নের চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন। আর এই ধরনের চাকরির প্রস্তুতি যোগ্যতা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *