Malaysia jete koto taka lageমালয়েশিয়া ভিসা পাওয়ার উপায়

জীবিকার তাগিদে আমাদের দেশের অনেক মানুষই বিদেশ ভ্রমন করে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ কান্ট্রিসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিভিন্ন রকম। আজকে আমি আলোচনা করব মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে এবং কি কি প্রিপারেশন নিতে হয়। এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনি সুস্পষ্ট একটি ধারণা পাবেন এবং বিভিন্ন এজেন্সি দ্বারা প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

উন্নত দেশগুলোর তালিকায় মালয়েশিয়া নিজেদের নাম লিখিয়েছে অনেক আগেই। যার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অসংখ্য মানুষ এখানে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারে। এমনকি দেশটিতে শ্রমিকের চাহিদাও রয়েছে অনেক। তবে নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য একটি দেশে কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই সকল বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা প্রয়োজন।

কিভাবে সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাবেন

বিভিন্ন এজেন্সি ছাড়াও পুরোপুরিভাবে সরকারের মাধ্যমেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে কাজ করা যায়। আপনি যদি সরকারি ভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার উপায় জানতে চান তাহলে অবশ্যই “আমি প্রবাসী” অ্যাপটি আপনার মোবাইলে ডাউনলোড করতে হবে। অ্যাপটি ডাউনলোড করার পর সকল তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

যদি সেখানে কোন কাজের সুযোগ বা চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকে তাহলে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে আপনি সরকারি ভাবে মালয়েশিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনভাবেই মালয়েশিয়া যাওয়া সম্ভব নয়।

এক্ষেত্রে কাজের পারমিশন ছাড়াও যারা কিনা লেখাপড়া, ভ্রমণ ইত্যাদি কাজে মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী তাদের জন্য প্রক্রিয়াটা কিছুটা ভিন্ন।

আমি প্রবাসী সফটওয়্যারটিতে রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে ভিসা যাচাই ফি ৩০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। সাধারণত আবেদন করার তিন দিনের মধ্যেই ভিসা প্রসেসিং শুরু হয়ে যায়।

মালয়েশিয়া যেতে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন হয়

যেহেতু একটু দেশ থেকে অন্য দেশে কাজ লেখাপড়া বা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা হচ্ছে তাই এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। এই কাগজপত্র ছাড়া কোনভাবেই বৈধভাবে অন্য দেশে প্রবেশ করা যাবে না। চলুন সেই তালিকা গুলি জেনে নেই।

• মেডিকেল রিপোর্টের সনদ
• bmet registration
• পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ
• ভোটার আইডি কার্ড
• করোনার টিকার সনদ
• কোম্পানির পক্ষ থেকে চাকরির অফার লেটার
• কোম্পানির সাথে কাজের চুক্তিপত্র
• দক্ষতার সার্টিফিকেট
• কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র
• ন্যূনতম ২ বছর মেয়াদ রয়েছে এরকম পাসপোর্ট
• সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

উপরিক্ত কাগজপত্র সনদ ছাড়াও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নন অবজেকশন সার্টিফিকেট, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ লেটার বা এডমিশনের কাগজ ইত্যাদি প্রয়োজন হতে পারে।

মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা প্রয়োজন হয়

এই টাকার পরিমাণ টি নির্ভর করে আপনি আসলে কি ধরনের ভিসায় ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন। সরকারিভাবে বাংলাদেশ হতে কাজের জন্য মালয়েশিয়ার ভিসা পেতে খরচ হতে পারে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা। তবে সরকারের নির্ধারিত ঘোষিত মূল্য হচ্ছে ৭৮৯৯০ টাকা।

কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে দেখা যায় অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। দালাল কিংবা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভিসা পেতে গেলে খরচের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে ভিসা যদি বৈধ না হয় এ ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি থাকে এবং গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

বাংলাদেশের অনুমোদিত বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে সেটি এখন আমরা জানবো। বেসরকারি বা অন্যান্য এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে প্রয়োজন হতে পারে ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা। এত টাকা খরচ করার পরেও এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ভালো কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলেনা। তাইতো একটু অপেক্ষা করে কিংবা কম খরচের লোভে না পড়ে সরকারি ভাবেই মালয়েশিয়া যাওয়া ভবিষ্যতের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।

মালয়েশিয়ার ভিসার দাম কত

ওয়ার্ক পারমিট ভিসারও আবার কয়েকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ফ্যাক্টরি ভিসা, কৃষি ভিসা, কলিং ভিসা, বিজনেস ভিসা ইত্যাদি। অর্থাৎ এই সকল ভিসার মাধ্যমে আপনি সেখানে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। কাজের ধরনের উপর এই ভিসার দাম নির্ধারিত হয়ে থাকে। চলুন বিভিন্ন ধরনের ভিসার দাম জেনে নেই।

• স্টুডেন্ট ভিসা ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা
• টুরিস্ট ভিসা ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা
• ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা
• বিজনেস ভিসা ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা
• মেডিকেল ভিসা ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা

অনেকে এবার জানতে চান মালয়েশিয়ার কোন ভিসা ভালো। এটিও নির্ভর করে আপনার নিজের ব্যক্তিগত চাহিদার উপর। তবে কোম্পানির ভিসা সবচাইতে বেশি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক। এর কারণ হচ্ছে একজন কর্মীর থাকা, খাওয়া, ফ্লাইটের টিকেট এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।

যেহেতু এটি কোম্পানির ভিসা তাই চাকরির ব্যাপারেও নিশ্চিন্তে থাকা যায়। যদিও অনেককে এজেন্সি প্রতারণা করতে পারে তাই এটা বারবার যাচাই করে নেওয়া জরুরী। ধীরে সুস্থে বুঝে নিয়ে বিশ্বস্ত উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচাইতে উত্তম।

মালয়েশিয়া যেতে কত বছর বয়স লাগে

আপনি ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন যে মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে। টাকা ছাড়াও অপর একটি দেশে গিয়ে কাজ করার জন্য আরো কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে বয়সের শর্ত।

সর্বনিম্ন ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ বছরের মধ্যে বয়স থাকলে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা খুব সহজে পাওয়া যায়। যাদের বয়স ২১ বছরের নিচে তাদের ক্ষেত্রে কোন কাজের অনুমতি দেওয়া হয় না। আবার যাদের কিনা বয়স ৪৫ বছরের অধিক হয়ে গিয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ কম থাকে।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যেতে কত সময় লাগ

সরকারিভাবে মালয়েশিয়ার সাধারণত বিমানের মাধ্যমেই যেতে হয়। তবে দালাল এবং এজেন্সির মাধ্যমে অনেকেই সড়ক এবং পানিপথেও গিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশের মালয়েশিয়ার ২ দেশের দূরত্ব হচ্ছে ৩৭৪৮ কিলোমিটার। যদি কোন যাত্রী বিরতিহীন ভাবে অর্থাৎ নন স্টপ বিমানে যাত্রা করেন তাহলে সময় লাগে প্রায় চার ঘন্টা। অপরদিকে কেউ যদি ওয়ান স্টপ ফ্লাইটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তাহলে সময় লাগতে পারে ১০ থেকে ১৫ ঘন্টার মত।

মালয়েশিয়ার টাকার রেট

উক্ত দেশটির মুদ্রার নাম হচ্ছে রিঙ্গিত। এক মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বাংলাদেশের ২৮.৭৫ টাকার সমান। তবে বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে এই রেট প্রতিনিয়তই কমতে এবং বাড়তে থাকে। এই হিসাব অনুযায়ী মালয়েশিয়ার ১০০ টাকা বাংলাদেশের প্রায় ২৮৭৫ টাকার সমপরিমাণ।

মালয়েশিয়ায় কোন কাজে বেতন কত

যেহেতু আর্থিক স্বচ্ছলতা আনায়নের জন্য এবং উপার্জনের জন্যই বিদেশে পাড়ি দেয়া হয় তাই সেখানকার বিভিন্ন কাজের বেতন সম্পর্কেও ধারণা থাকা ভালো। তবে উক্ত দেশের প্রবাসী বাংলাদেশেররা বিভিন্ন কাজ করে ৩৫ হাজার টাকা থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়ে থাকে।

তবে কাজ যাই হোক না কেন একজন শ্রমিক যদি দৈনিক ৮ ঘন্টা এবং সপ্তাহে ৪৫ ঘন্টা ডিউটি করে তাহলে সর্বনিম্ন ১৭০০ রিংগিত বেতন পেয়ে থাকবে। তবে বাংলাদেশের শ্রমিকরা ঘন্টা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে থাকে।

ইলেকট্রনিক, ড্রাইভিং, কনস্ট্রাকশন কাজ, ওয়েল্ডিং ইত্যাদি কাজে বেতন সাধারণত বেশি হয়ে থাকে। এমনকি প্লাম্বিং, প্রিন্টার, কারখানা শ্রমিক, পাম বাগানের কাজ সুপার মার্কেটের কাজের অনেক চাহিদাও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে এ সকল কাজের দক্ষতা অর্জন করলে বেশি বেতনে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

• মালয়েশিয়ায় রেস্টুরেন্টে কাজ করলে ৬০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যায়
• কন্সট্রাকশন ফ্যাক্টরিতে ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যায়
• ফ্যাক্টরিতে কাজ করলে ৪০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যায়
• সুপার মার্কেটের সাধারণত ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেয়।

উপরের এই পোস্টোর মাধ্যমে আমি সুস্পষ্ট ভাবে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি যে মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে মালয়েশিয়া কোন কাজের বেতন কত ইত্যাদি সম্পর্কে। পরিশ্রম ধৈর্য এবং ইচ্ছা সত্যের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের কাজে সফলতা অর্জন করা যায়। তবে দূর দেশে পাড়ি দেওয়ার আগে অবশ্যই ভিসা পাসপোর্ট কোম্পানির সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। যাতে করে আপনার পরিবারের কষ্টের জমানো টাকা বিফলে না যায়।

By admin

One thought on “মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা খরচ হতে পারে ২০২৫”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *