Office Assistant Work

এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো সরকারি, বেসরকারি অথবা স্বায়ত্বশসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক পদের কাজ কি? একই সাথে বেতন বাতাস সহ অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করব। বাংলাদেশের প্রতিটি অফিস আদালতেই রয়েছে সহায়ক শ্রেণীর কর্মচারীরা। এরা মূলত একজন অফিসারের সাথে সকল কাজ করে থাকেন। দিন দিন এই পদে যেমন চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে আকর্ষণীয় বেতনও প্রদান করা হচ্ছে।

অফিস সহায়ক কাকে বলে?

সাধারণত আমরা পিয়ন নামেই একে চিনে থাকি। কর্পোরেট অফিসগুলোতে সাপোর্টিং স্টাফ (Supporting Stuff) কিংবা মেসেঞ্জার (Messenger) নামে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশ সরকারি চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী ২০তম গ্রেড এবং চতুর্থ শ্রেণীর চাকরি হচ্ছে অফিস সহায়ক। প্রায়ই এই বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে থাকে। যেহেতু চাহিদা অনেক তাই আবেদন ও পরীক্ষা দেওয়ার সত্ত্বেও অনেকের চাকরি হয় না।

আমরা জানি সহায়ক শব্দের অর্থ সহায়তা করা। সেই অর্থে অফিসের সকল কার্যক্রমের সহায়তা করাই হচ্ছে এই পদের কর্মচারীর কাজ। যদিও কয়েক বছর আগেও এই পদটি ছিল না, তখন এই পদের কর্মচারীদের এমএলএসএস নামে অভিহিত করা হতো। এই শব্দটির পূর্ণরূপ হচ্ছে মেম্বার লয়ার অর্ডিনেট সার্ভিস। পরবর্তীতে সরকারের জারিকৃত একটি পরিপত্র অনুযায়ী এটির নাম পরিবর্তন করা হয়।

তবে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে কিনা এমএলএসএস নামেই রয়েছে, পরিবর্তন করা হয়নি।

অফিস সহায়ক পদের কাজ কী?

মূলত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সকল ধরনের অফিসিয়াল কাজে সহযোগিতা করাই হচ্ছে অন্যতম দায়িত্ব। অর্থাৎ অফিসের যখন কাজকর্ম রয়েছে সেগুলোর সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করা।

এক্ষেত্রে অফিস এবং দপ্তরে সরকারি ভাবে যারা এই পদে জয়েন করেন তাদের কাজগুলো নিম্নরূপ:

১. অফিসের সকল ধরনের আসবাব সুন্দর সাজানো এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।

২. বিভিন্ন ধরনের রেকর্ড সমূহ সুন্দরভাবে বিন্যাস করা।

৩. গুরুত্বপূর্ণ অফিস ফাইল এবং কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নির্দেশ অনুসারে এক স্থান হতে অন্য স্থানে কিংবা অন্য অফিসের স্থানান্তর করা। এমনকি অফিসের আসবাব গুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সরানোর কাজ করতে হয়।

৪. গোপন অথবা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গুলি স্টিলের বাক্সের সাহায্যে ঊর্ধ্বতন কর্মারকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য অফিসে পৌঁছানো। এমনকি অন্যান্য কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের জল পানীয় ব্যবস্থা করা।

৫. অফিসে যে সকল দ্রব্যাদি রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ করা এবং নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করে নিয়মিত অফিসে আসা।

৬. অফিসে সেবা গ্রহণ করতে আসা পাবলিক এবং দর্শন প্রার্থীদের সাথে ভদ্রতা বজায় রেখে সেবা প্রদান করা। কর্মকর্তার পক্ষে অনেক সময় আর্থিক লেনদেন যেমনঃ ব্যাংক চেক জমা এবং টাকা তোলার কাজও করতে হতে পারে।

৭. অফিস শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পূর্বেই কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে আগমনের রিপোর্ট প্রদান করতে হয়।

৮. বিনা অনুমতিতে কখনোই অফিস ত্যাগ করা যাবে না এবং কোন কারণে বাইরে যেতে চাইলে সিনিয়র কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।

অফিস সহায়ক এর বেতন কত টাকা?

যেহেতু এটি ২০তম গ্রেডের চাকরি তাই মূল বেতন হয় ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০,০১০ টাকা পর্যন্ত। যোগদান করার পরে ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে বেতন এর চাইতে বেশিও করতে পারে। তবে মূল বেতনের বাইরে অন্যান্য ভাতা এবং বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করে বৈধভাবে বাড়তি অপর্থতা উপার্জনের সুযোগ রয়েছে।

আমরা অফিস সহায়ক পদের কাজ এবং বেতন সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এছাড়াও আরো অনেক বিষয় দিয়েছে যেগুলো সম্পর্কে সরকারি চাকরি প্রার্থীরা জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন। সেগুলো সম্পর্কেও নিম্নে আলোচনা করা হলো।

অফিস সহায়ক পদে কি প্রমোশন হয়?

সাধারণত ২০তম গ্রেডের পদে প্রমোশনের সুবিধা খুব কম। তবে যোগ্যতা অনুযায়ী ৫ থেকে ৭ বছর কাজ করার পরে অফিস সহকারী অথবা কম্পিউটারের মুদ্রাক্ষরিত পদে প্রমোশন হতে পারে।

পরীক্ষা ও নিয়োগ পদ্ধতি

বিভিন্ন দপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের এই পদে লোকবল নিয়োগ করার উদ্দেশ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়ে থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সিলেবাস অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, অংক, সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান বিষয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এই পরীক্ষাটি বহুনির্বাচনী অথবা লিখিত যে কোন পদ্ধতিতে হতে পারে।

গার্মেন্টস লট ব্যবসা সম্পর্কে জানুন

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভাইবা বা মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরবর্তীতে চূড়ান্ত ফলাফলের উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরই যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

অফিস সহায়ক পদের কাজ শুধুমাত্র উপরে উল্লেখিত দায়িত্ব গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তার সিনিয়র কর্মকর্তার প্রয়োজন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *