বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী প্রতিনিয়তই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য দেশের নাগরিকরা একে নিরাপত্তা প্রদানকারী বাহিনী হিসেবে অভিহিত করে। সম্প্রতি একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই পুলিশ কনস্টেবল এর বেতন কত টাকা তা জানতে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছে। তরুণ তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই সেবকমূলক চাকরিটি।
শিক্ষাগত অযোগ্যতার পাশাপাশি যেহেতু শারীরিক ফিটনেস এর ও বিষয় রয়েছে তাই সবাই এই সেবামূলক চাকরিতে যোগদান করার সুযোগ পায় না। বিভিন্ন শর্ত পূরণের সাপেক্ষে বিশেষ বিশেষ যোগ্যতারও প্রমাণ দিতে হয়। যারা পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করতে আগ্রহী তারা এই আজকের আর্টিকেলটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন। ভবিষ্যৎ প্রমোশন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কি কি সুবিধা পাওয়া যায় তার সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাবেন।
পুলিশ কনস্টেবল এর বেতন কত টাকা
বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে যারা চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন তাদেরকে প্রথমে ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। প্রশিক্ষণ কালীন সময়ে একজন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (TRC) বিনামূল্যে পোশাক সামগ্রী পাবেন। সেই সাথে থাকা-খাওয়া এবং চিকিৎসার সুবিধা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা ও দেওয়া হয়।
যে সকল টিআরসি সফলতার সহিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে চাকরিতে যোগদান করেন তাদেরকে পুরো বেতন দেওয়া হয়। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৭ তম গ্রেডে একজন কনস্টেবল ৯ হাজার থেকে ২১৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়ে থাকেন। এই বেতনের পাশাপাশি আরো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভাতা এবং সুবিধা। সিটি কর্পোরেশন, মেট্রোপলিটন এরিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে পোস্টিং এ আলাদা আলাদা ভাতা সুবিধা রয়েছে।
পুলিশ কনস্টেবল এর চাকরির সুবিধা
• প্রতিমাসে বেতনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডিউটি ও অন্যান্য ভাতা পাওয়া যায়।
• দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং স্থানে কাজ করার সুযোগ।
• টিআরসি (Trainee Recruit Constable) পদে যারা নির্বাচিত হন তারা প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশ পদে যোগদান করেন। চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে পরবর্তীতে কনস্টেবল পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়।
• চাকরি কালীন সময়ে বিনামূল্যে পোশাক চিকিৎসা ভাতা পরিবারের সদস্যদের জন্য রেশন সামগ্রী ইত্যাদি পাওয়া যায়।
• জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনয়নেরও সুযোগ রয়েছে।
• একজন পুলিশ কনস্টেবল ভবিষ্যতে তার সন্তানদের জন্য আলাদা শিক্ষা সহায়ক ভাতা পায়। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুইজন সন্তানের জন্য এই ভাতা প্রযোজ্য হয়।
পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির যোগ্যতা কি
টিআরসি পদে চাকরি করার জন্য অবশ্যই প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর হতে হবে। বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং অবিবাহিত হতে হবে। এক্ষেত্রে ডিভোর্স প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীকে অবশ্যই সর্বনিম্ন জিপিএ ২.৫ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। শারীরিক যোগ্যতা হিসেবে পুরুষ-প্রার্থীদের ক্ষেত্রে লম্বা হতে হবে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে লম্বা হতে হবে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। শরীরের ওজন অবশ্যই উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
পুলিশ কনস্টেবল থেকে প্রমোশন পেয়ে কি হওয়া যায়
ইতিমধ্য আমরা জেনে গিয়েছে যে পুলিশ কনস্টেবল এর বেতন কত টাকা এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে। সব তরুণ তরুণীর এই আকাঙ্ক্ষা থাকে একটি পদের যোগদান করে ভবিষ্যতে প্রমোশন পাওয়া এবং নিজেকে আরও বেশি যোগ্য প্রমাণ করা। তাইতো পুলিশ এবং বিভিন্ন সামরিক বাহিনীতে যোগদান করার সময় তাদের আগ্রহ থাকে যে ভবিষ্যতের প্রমোশনের সুবিধা সম্পর্কে। টিআরসি পদের যোগদান করেও ভবিষ্যতে উচ্চতর পদে যোগদান করার সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা দক্ষতা পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে একজন টিআরসি ভবিষ্যতে এসআই এবং ইন্সপেক্টর পদের প্রমোশন পেতে পারেন। যদিও টিআরসি হতে ইন্সপেক্টর পদে প্রমোশন পাওয়া বেশ কঠিন। তবে কঠোর পরিশ্রম এবং দক্ষতার সাপেক্ষে টি আর সি হতে অনেকেই এই পদে যোগদান করেছেন।
উচ্চতর পদে প্রমোশন ফেলে গ্রেড উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধি পায়।
অন্যান্য নির্দেশনাবলি
আশা করি আপনারা পুলিশ কনস্টেবল এর বেতন কত টাকা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়া আগে প্রার্থীর সকল ধরনের তথ্য যাচাই করা হয়। এক্ষেত্রে কোন প্রতারণা মূলক বিষয় পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য দিতে হবে এবং বারবার যাচাই করে নিতে হবে।
