সারাদিনে কতবার পুশআপ করা ভালো

সুস্থ থাকার জন্য শারীরিক ব্যায়ামের বিকল্প কোন কিছু নেই। তবে এই ব্যায়াম এক একজনের জন্য একেক ভাবে ফলাফল নিয়ে আসে। তাইতো সারাদিনে কতবার পুশআপ করা ভালো সেটিও বয়স এবং শারীরিক গঠন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যারা কিন শারীরিক ও বুকের গড়নর পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন আজকের এই লিখাটি তাদের জন্য।

পুশআপ করা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজগুলোর মধ্যে অন্যতম। যারা কিনা নিয়মিত এবং সঠিকভাবে এই ব্যায়ামটি করে থাকেন তাদের দেহের উপরের অংশ বিশেষ করে মেরুদন্ডগুলো আরো বেশি শক্তিশালী হয়। একইভাবে কাধের স্বাস্থ্য উন্নত হতে থাকে। যেহেতু পুশ আপের ফলে শরীরের বুকের অংশে সবচাইতে বেশি শক্তি ব্যবহৃত হয় তাই বুকের গড়ন ভালো করতে এটি দারুন কার্য করে।

আর যেহেতু এই ব্যায়ামটি করতে অন্যান্য কোন যন্ত্রপাতির ওজন দরকার হয় না তাই যেখানে ইচ্ছা সেখানেই করা যায়। তবে পুশ আপ করে দেহের গঠনের পরিবর্তনে সবচাইতে প্রয়োজনীয় বিষয়টি হলো ধারাবাহিকতা। আপনি যদি মনে করেন এক রাত এতে করে দেহের পরিবর্তন আনবেন তাহলে সেটি। বরং নিয়মিত এবং ধীরে ধীরে এই ব্যায়ামের মাত্রা বৃদ্ধি করতে হবে।

প্রতিদিন কতবার পুশ আপ করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

আপনি যদি শারীরিকভাবে খুব বেশি শক্তিশালী না হয়ে থাকেন তাহলে ধীরে ধীরে এই ব্যায়ামটি শুরু করুন। এক্ষেত্রে ১ সপ্তাহে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন ১০ থেকে ২০ বার পুশ আপ দিন।

যদি একেবারে বেমি পুশআপ দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিন। তারপর যখন দেখবেন কষ্ট কমে আসছে তখন বাড়িয়ে পুশ আপের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০টি করুন।

আবার ১০০টি পুশ আপ যেহেতু একবারে দেওয়া কঠিন সাধ্য তাই এটি কেউ ১০ টি বা ২০টি পার্টে ভাগ করে নিন। যারা কিনা ফিটনেস নিয়ে অনেক বেশি সচেতন তাদের জন্য প্রতিদিন ২০০ পুশ দেওয়া কঠিন কোনো ব্যাপার না। বিশেষ করে যারা নিয়মিত খেলাধুলা করে থাকেন অথবা জিম করেন।

কোথায় আছে সুস্থ দেহ সুন্দর মন। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেহেরও কার্যক্ষমতা কমে যায়। খাদ্যাভ্যাস, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে নুইয়ে পড়ে আমাদের দেহ। কিন্তু চাইলে অনেক বছর বয়স পর্যন্ত যে কেউ যুবকের মতই সুস্থ দেহের অধিকারী হতে পারে। আর এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত শারীরিক এক্সারসাইজ।

দিনে কতবার পুশআপ করা ভালো সেটি আশা করি বুঝতে পেরেছেন। সুন্দর দেহ তৈরি করার জন্য এর পাশাপাশি সাঁতার কাটা সাইকেল চালানো, দৌড়ানো, হাটা, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন খেলা ইত্যাদিও খুবই কার্যকরী পদ্ধতি।

যাদের কিনা কর্মব্যস্ত জীবনে এত কিছু করার সময় হয়না তারা সরাসরি জিমে ভর্তি হতে পারেন। জিম সেন্টারে একই সাথে সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। আর গ্রামে বা এমন এলাকায় বাস করেন যেখানে জিম সেন্টার নেই তাদেরও উচিত সময় এবং সুবিধা সুযোগ করে ব্যায়াম গুলি করার।

এতে করে একদিকে যেমন বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ থেকে আমরা সুস্থ থাকতে পারি অপরদিকে দৈনন্দিন জীবনের কাজে মনোযোগ হওয়ার জন্য শারীরিক শক্তি পেতে পারে।

পুশআপ দেওয়ার সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত

সঠিক শরীরের ভঙ্গি

এই ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই মাথা থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত দেহটিকে সোজা অবস্থায় রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোমর যেন খুব বেশি উপরে উঠে না যায় কিংবা খুব বেশি নিচের দিকে চোখে না পড়ে। একইভাবে ঘাড় যেন শরীরের সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে থাকে।

হাতের অবস্থান

• কাঁধের বরাবর থেকে সামান্য বাইরে হাত রাখুন
• হাতের আঙ্গুলগুলো সামনের দিকে রাখা উচিত
• কুনুই যেন ৪৫° কোণে বাইরে যায়

শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া

যখন কিনা আপনি নিচের দিকে নামবেন তখন শ্বাস নিন এবং যখন উপরের দিকে উঠবেন তখন শ্বাস ছাড়ুন।

ধীরে ধীরে ব্যায়াম করুন

কখনোই তাড়াহুড়া করে কিংবা খুব দ্রুত ভাবে দেওয়া উচিত নয়। এতে করে ইনজুরি কিংবা পেশিতে চাপ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ব্যায়াম করুন।

চোখের দৃষ্টি

পুশআপ দেওয়ার সময় যে সকল বিষয়গুলো দিবে সতর্ক হওয়া উচিত তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চোখের দৃষ্টি। কারণ ঘাড়ের উপর চাপ দিয়ে জোর করে সামনে কিংবা অন্যদিকে তাকালে ঘাড়ে চাপ বাড়তে পারে।

উপরিক্ত সতর্ককতাগুলি ছাড়াও এই এক্সারসাইজ করার আগে হালকা ব্যায়াম করে নিন। এতে করে শরীরের পেশিগুলো রিলিফ হবে এবং ব্যায়াম কার্যকরী হবে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *