ssc te a+ pawar niyom kiকিভাবে এসএসসি তে এ+ পাওয়া যায়

আর মাত্র কয়েক মাস পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চলতি বছরে মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা। তাইতো অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহভরে জানতে চাচ্ছে এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ার উপায় কি? নিয়মিত পড়াশোনা এবং নিয়মানুবর্তিতা মেনে চললে যে কোন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব। তবে পরিশ্রম বা অধ্যাবসায়ের পাশাপাশি অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। আর আজকে আমি সেই নিয়মগুলো নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো অনুসরণ করে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় সর্বোচ্চ রেজাল্ট করেছে।

এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ার উপায় কি?

এ প্লাস বা জিপিএ- ৫ তখনই পাওয়া যায় যখন সকল সাবজেক্টে গড়ে ৮০ কিংবা তার চাইতে বেশি নম্বর থাকে। অর্থাৎ ১০০ এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৮০ তার অধিক পেলে সেটিকে জিপিএ ফাইভ ধরা হয়। আর যদি নম্বরগুলোর গড় ৮০ এর নিচে এবং ৭০ বা তার চাইতে বেশি থাকে তাহলে সেটিকে ধরা হয় জিপিএ-৪ বা A-গ্রেড।

তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি সকল বিষয়ে এ প্লাস না পায় এবং ঐচ্ছিক বিষয়ে ভালো রেজাল্ট করে তাহলেও তার সব মিলিয়ে জিপিএ-৫ থাকবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের উল্লেখ করা আর্টিকেলটি তোমরা করতে পারো।
এসএসসিতে কয়টি বিষয়ে A+ পেলে GPA 5 থাকবে

এখন কথা হচ্ছে প্রায় প্রতিটি বিষয়ে ৮০ নম্বর বা এসএসসিতে A+ পাওয়া বেশ কঠিন সাধ্য ব্যাপার। এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর অনুশীলন। সাধারণত নিয়মিত রুটিন মেনে পড়াশোনা করলেই যে কোন বিষয়ে ৬০ থেকে ৭০ বা তারা অধিক নম্বর পাওয়া যায়। তবে ৮০ বা তার বেশি নম্বর পেতে চাইলে অবশ্যই বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে। চলো সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

নিয়মিত পড়াশোনা করা

এসএসিতে এ প্লাস পাওয়ার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রতিদিন অর্থাৎ রুটিন মেনে পড়াশোনা করতে হবে। সপ্তাহে কয়েকদিন পড়াশোনা করে এবং বাকি কয়েকদিন বইয়ের ধারে কাছে না গেলে কখনোই ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব নয়। এতে করে বড়জোর পাশ মার্ক কিংবা আর একটু বেশি নম্বর তোলা যেতে পারে।

তাই স্কুল কোচিং কিংবা প্রাইভেটের সময় বাদে যতটুকু সময় বাসায় পাওয়া যায় সেইটুকুতে মোবাইল বা অন্য কোন বিষয়ে সময় নষ্ট না করে সর্বোচ্চ পড়াশোনা করতে হবে।

মনোযোগ সহকারে পড়া

আমরা অনেক সময় পড়ার টেবিলে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে কাটিয়ে দেই কিন্তু মাথায় তেমন কিছুই ঢোকে না। এরকমটা হওয়ার কারণ হচ্ছে অপর্যাপ্ত মনোযোগ। অনেক সময় পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্ন দেখলে মনে হয় এটি আগেও দেখেছে কিংবা উত্তর আবছা আবছা মনে পড়ে। এর কারণ হচ্ছে ওই টপিকটি পড়ার সময় তোমার মনোযোগ পুরোপুরি ছিল না। তাই উত্তরও ঠিকঠাকভাবে মনে করতে পারছ না।

যেকোনো বিষয় পড়ার সময় মনোযোগ দিয়ে সেটির খুঁটিনাটি পড়া উচিত। এতে করে এসএসসি পরীক্ষায় লিখিত উত্তরের পাশাপাশি বহুনির্বাচনি ভালো নম্বর পাওয়া যাবে।

বেশি বেশি লেখার প্র্যাকটিকস করা

কোন শিক্ষার্থী যদি সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই পারে কিন্তু সে যদি ঠিকঠাকভাবে লিখতে না পারে তাহলে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল আসবেনা। তাই যেকোনো টপিক্স পড়ার পর সেটি সাথে সাথে লিখার অভ্যাস করতে হবে। এতে করে সে টপিকস অনেক ভালোভাবে মাথায় ঢুকে এবং বারবার লেখার কারণে হাতের লেখক সুন্দর হয়।

অপশনাল সাবজেক্টের গুরুত্ব

আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ঐচ্ছিক বিষয় যেমন কম্পিউটার, কৃষি, গার্হস্থ্য, জীব বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়গুলোতে কম গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কারণ অপশনাল বা ঐচ্ছিক সাবজেক্টে কোন শিক্ষার্থী ফেল করলেও মোট রেজাল্টে ফেল আসে না। তাই সময় এবং পরিকল্পনার অভাবে অনেক স্টুডেন্ট এই সাবজেক্ট গুলোতে কম গুরুত্ব দেয়।

কিন্তু এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ার উপায় কিংবা ভালো ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার জন্য এই ঐচ্ছিক বিষয়গুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বারবার রিভিশন দেওয়া

আমরা যখন কোন একটি টপিক্স সামনে রেখে পড়ি সেটাকে সহজ মনে হয়। তাই বারবার না পড়ে সেই পড়াটি রেখে অন্য একটি পড়ায় চলে যাই। কারণ প্রশ্নের উত্তর যখন আমাদের সামনে থাকে তখন সেটিকে সহজে মনে হয়। কিন্তু পরীক্ষার হলে সেটি আর যথাযথভাবে মনে পড়ে না। তাই কোন একটি আপনি যত বেশি দুঃখ হোন না কেন সেটি অবশ্যই বারবার রিভিশন দেওয়া প্রয়োজন।

হাতের লিখার উপর গুরুত্ব

সুন্দর হাতের লেখা অধিক নম্বর পাওয়ার জন্য সব সময়ই বেশি কার্যকর। তাই যাদের হাতের লেখা খুব বেশি সুন্দর নয় অথবা অস্পষ্ট তাদের বেশি বেশি প্র্যাকটিস করা প্রয়োজন। কারণ নিয়মিত অনুশীলনায় হাতের লেখাকে সুন্দর ও স্পষ্ট করা খুব বেশি কঠিন কিছু নয়।

আত্মবিশ্বাস

পরিশেষে নিজে যথাযথ প্রস্তুতি শেষেও আত্মবিশ্বাসের অভাবেই অনেকেই পরীক্ষার হলে গিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েন। যার কারণে জানা উত্তর অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। নিজেকে সবসময় কনফিডেন্ট রাখা প্রয়োজন।

নিজে নিজে মডেল টেস্ট দেওয়া

বিগত সালের প্রশ্ন কিংবা মডেল টেস্ট বইয়ের মাধ্যমে নিজে নিজে বাসায় পরীক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত এসএসসি পরীক্ষায় লিখিত ও বহুনির্বাচনীর জন্য সর্বমোট ৩ ঘন্টা সময় থাকে। সঠিক উত্তর জানা সত্ত্বেও যদি হাতের লেখা ধীর গতি হওয়ার কারণে সবগুলোর উত্তর দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে সেটি হবে আক্ষেপের কারণ।

তাই সকল প্রশ্ন যথাসময়ে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিতে বাসায় বসে নিজে নিজে মডেল টেস্ট দেওয়া খুবই উপকারী।

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম

শরীর যত ফিট থাকবে মনেও তত বেশি সুস্থ থাকবে। লেখাপড়া করতে করতে কিংবা সারা দিন চেয়ার টেবিলে বসে থেকে যদি শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে ভালো ফলাফল বা এসএসিতে এ+ পাওয়া সম্ভব নয়। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন। এতে করে শরীর সুস্থ থাকবে এবং মনও অনেক বেশি ভালো থাকবে।

আমাদের শেষ কথা

এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ার উপায় গুলি মেনে চলা খুবই সহজ। সামনে পরীক্ষায় কতদিন রয়েছে সেটি হিসাব করে নিজের দৈনন্দিন লেখাপড়ার একটি রুটিন করে নেওয়া, তারপর সেই অনুযায়ী পড়াশোনা করলে খুব সহজেই ভালো ফলাফল করা সম্ভব হতে পারে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় সাধারণত একটি পরীক্ষার পর দুই বা তিন দিনের বিরতি থাকে। সেই সময়টিও কাজে লাগিয়ে ভালো ফলাফল করা যায়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *